0 পছন্দ 0 অপছন্দ
645 বার দেখা হয়েছে 0 1
in প্রযুক্তি by * সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 645 বার দেখা হয়েছে

1 Answer

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
0
ন্যানোপ্রযুক্তি (ন্যানোটেকনলজি বা সংক্ষেপে ন্যানোটেক) পদার্থকে আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করবার বিদ্যা। ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তিকে সংক্ষেপে ন্যানোটেক বলা হয়। ন্যানোটেকনোলজি পদার্থকে আণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার বিদ্যা। [১] সাধারণত ন্যানোপ্রযুক্তি এমন সব কাঠামো নিয়ে কাজ করে যা অন্তত একটি মাত্রায় ১০০ ন্যানোমিটার থেকে ছোট। ন্যানোপ্রযুক্তি বহুমাত্রিক, এর সীমানা প্রচলিত সেমিকন্ডাকটর পদার্থবিদ্যা থেকে অত্যাধুনিক আণবিক স্বয়ং-সংশ্লেষণ প্রযুক্তি পর্যন্ত; আণবিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ন্যানোপদার্থের উদ্ভাবন পর্যন্ত বিস্তৃত। রিচার্ড ফাইনম্যানকে ন্যানোপ্রযুক্তির জনক বলা হয়।

ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স, শক্তি উৎপাদনসহ বহু ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। অপরদিকে পরিবেশের উপর এর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব নিয়েও সংশয় রয়েছে। তারপরও পৃথিবীর বহু দেশে ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে।

ন্যানো একটি মাপার একক। ম্যাট্রিক একক এর শুরুটা হয়েছিল ১৭৯০ সনে ফ্রান্সে। ফ্রান্স জাতীয় পরিষদ এককগুলিকে সাধারণ করবার জন্য কমিটি গঠন করে এবং তারাই প্রথম ডেসিমাল কিংবা দশ একক এর ম্যাট্রিক পদ্ধতির প্রস্তাব করেন। এবং দৈর্ঘ্যের একক এক মিটার এর সূচনা করেন। তারা পৃথিবীর পরিধির ৪০,০০০,০০০ ভাগের এক ভাগকে এক মিটার বলেন। মিটার শব্দটি গ্রিক শব্দ metron থেকে এসেছে যার অর্থ হল, পরিমাপ। এছাড়া মিটার এর ১০০ ভাগের এক ভাগকে সেন্টিমিটার বলা হয়। ১৭৯৩ সনে ফ্রান্সে আইন করে তা প্রচলন করা হয়। ১৯৬০ সনে এই মিটার এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়। ক্রিপটন ৮৬ এর কমলারঙের রেডিয়েশন এর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ১,৬৫০,৭৬৩.৭৩ ভাগের এক ভাগকে মিটার বলা হয়। ১৯৮৩ সনে মিটার এর সংজ্ঞা পুনরায় পরিবর্তিত করা হয়, বর্তমান সংজ্ঞা অনুযায়ী, বায়ুশুন্যে আলোর গতির ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ ভাগের এক ভাগকে মিটার বলা হয়। এই মিটার এর ১,০০০,০০০,০০০ (১০০ কোটি) ভাগের এক ভাগকে ন্যানোমিটার বলা হয়। ন্যানো শব্দটি গ্রিক nanos শব্দ থেকে এসেছে যার অভিধানিক অর্থ হল dwarft কিন্তু এটি মাপের একক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এই ন্যানোমিটার স্কেলে যে সমস্ত টেকনোলজি গুলি সর্ম্পকিত সেগুলিকেই বলে ন্যানোপ্রযুক্তি।

মিটার এককটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত। বাড়িঘর আসবাবপত্র সবই আমরা মাপি এই মিটার এককে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মিলিমটার স্কেলে যন্ত্রপাতির সূক্ষতা মাপা হত। মিলিমিটার এর ছোট কোন কিছু নিয়ে চিন্তা ভাবনার অবকাশ ছিলনা। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পরে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা হল। সেমিকণ্ডাকটর তার পথযাত্রা শুরু করল। আর এর শুরুটা হল, ট্রানজিস্টর আবিষ্কার দিয়ে। তখন মাইক্রোমিটার একক দিয়ে আমাদের চিন্তভাবনা শুরু হল। বলা যায় যাত্রা শুরু হল, মাইক্রোটেকনোলজির।

এর পরে টেকনোলজি এগুতে লাগলো প্রচন্ড গতিতে। নানা জিনিসপত্র, যার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও, ফ্রিজ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তা কিভাবে আরো ছোট করা যায় তা নিয়েই প্রচন্ত যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। কোন কম্পানি কত ছোট আকারের এই সমস্ত ভোগ্য জিনিস আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে, তার প্রতিযোগিতা শুরু হল। আর এই সমস্ত ব্যাপারটা সম্ভব হল, সেমিকণ্ডাকটর সংক্রান্ত প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রথম দিকের রেডিও কিংবা টিভির আকার দেখলে আমাদের এখন হাসি পাবে। এত বড় বড় জিনিস মানুষ ব্যবহার করত কিভাবে? সেই প্রশ্নটি হয়তো এসে দাড়াবে। কিন্তু এখন বাজারে দেয়ালে ঝুলাবার জন্য ক্যালেন্ডারের মত পাতলা টিভি এসেছে। সামনে হয়তো আরো ছোট আসবে।

১৯৮০ সনে IBM এর গবেষকরা প্রথম আবিষ্কার করেন STM(Scanning Tunneling Microscope) এই যন্ত্রটি দিয়ে অণুর গঠন পর্য়ন্ত দেখা সম্ভব। এই যন্ত্রটির আবিষ্কারই ন্যানোপ্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। কিভাবে কাজ করে এই STM। এই যন্ত্রে খুব সূক্ষ পিনের মত সুচাল টিপ আছে এবং তা যখন কোন পরিবাহী বস্তুর খুব কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তা থেকে টানেলিং নামে খুব অল্প পরিমাণে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়। এবং এই বিদ্যুৎ এর পরিমাণ দিয়েই সেই বস্তুটির বাহিরের স্তরের অণুর চিত্র তৈরি করা হয়। তবে এই STM এর ক্ষেত্রে যা দেখতে চাইবো তাকে অবশ্যই বিদ্যুৎ পরিবাহী হতে হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহীর অণুর গঠন কিভাবে দেখা যাবে? না মানুষ বসে থাকেনি। অসম্ভবকে সম্ভব করেই মানুষ যেভাবে এতদূর এসেছে, তেমনি ভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা গেল AFM দিয়ে। STM এর ক্ষেত্রে টানেলিং বিদ্যুৎ দিয়ে কাজ করা হয় এবং AFM দিয়ে সূক্ষ্ম পিন দিয়ে অণুর গঠন দেখা সম্ভব।
by মহাজ্ঞানী (3.9হাজার পয়েন্ট)

সম্পর্ক যুক্ত প্রশ্ন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত মার্চ 19 in প্রযুক্তি by goole (239 পয়েন্ট) | 75 বার দেখা হয়েছে
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 76 বার দেখা হয়েছে
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 228 বার দেখা হয়েছে
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
1 টি পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 118 বার দেখা হয়েছে
1 টি পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 561 বার দেখা হয়েছে
1 টি পছন্দ 0 অপছন্দ
2 উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 81 বার দেখা হয়েছে
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 26 বার দেখা হয়েছে
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 16, 2020 in প্রযুক্তি by *dwipa422 সাধারন জ্ঞানী (696 পয়েন্ট) | 37 বার দেখা হয়েছে
1 টি পছন্দ 0 অপছন্দ
1 টি উত্তর
জিজ্ঞাসিত ডিসেম্বর 27, 2020 in প্রযুক্তি by goole (239 পয়েন্ট) | 72 বার দেখা হয়েছে

দৃষ্টি আকর্ষনঃ


প্রশ্ন ডট কম এর সম্মানিত সদস্যদের জানাচ্ছি যে, আমরা আপনাদের জন্য প্রশ্ন ব্লগ চালু করতে যাচ্ছি। যেখানে সদস্যরা যে কোন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। ধন্যবাদ
4,432 প্রশ্ন
4,108 উত্তর
10 মন্তব্য
63 ব্যবহারকারী